অঘোষিত ঔপনিবেশিক মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সুলতানে আজম, মহিমান্বিত রাজতন্ত্র রক্ষক ডোনাল্ড ট্রাম্প আল সৌদ মসনদে আরোহন করতে যাচ্ছেন খুব শীঘ্রই।
তো সুলতানে আজম খায়েশ করেছে তাঁর সিংহাসনে আরোহনের সময় তিনি তার হিরোয়িক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চান ত্রাণকর্তা জায়োনিস্টদের নিকট। ইতিপূর্বে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে তার দেয়া নৈবেদ্যে জায়োনিস্ট প্রভুগন যথেষ্ট প্রীত হয়েছিলেন। তাই এবারও তিনি উপঢৌকন দেয়ার লোভ সামলাতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে তিনি যুদ্ধবিরতি নামক নজরানা পেশ করছেন নেতানিয়াহুর দরবার শরীফে।
শোনা যায় সুলতানে আজমের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভুত্বের দাবিদার তৈল সলমনের প্রচুর সখ্যতা রয়েছে। অঘোষিত ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ তৈল সলমনের ও সায় থাকে সুলতানে আজমের প্রতিটি পদক্ষেপে। কিন্তু তৈল সলমনের আবার মেকি চক্ষুলজ্জা আছে খানিকটা! সেজন্য তিনি লোকসমক্ষে আবার পদলেহন করতে লজ্জা পান। তবে পর্দার অন্তরালে ওপেকের ১০০% খাঁটি তেলের ইরানি সরপুরিয়া ভেজে খাইয়ে দেন বলে নিন্দুকেরা বলে থাকে।
মহামতি এরদোয়ান আবার অনেকটা চতুর প্রকৃতির। তিনি দিনে রাতের তফাত আবার ভালো বোঝেন। শিক্ষিত মানুষ। জ্যোর্তিবিজ্ঞান এ ভালো দখল আছে বলে মনে হয়। সকালে হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা বলে রাত্রি নিশীথের নিরজনে দরবার শরীফে তৈল আর লৌহ ইস্পাতের শকটবাহী নজরানা দিয়ে পরিতুষ্ট করেন ন্যাটোর সদস্যপদ।
জর্ডানের সুলতানুল মোয়াজ্জেম আবার স্ফিত পদের বিষব্যাথায় কাতর। ঘুমহীন দুচোখে ইরানি ড্রোন মিসাইল বড্ড জ্বালাতন করে। তাইতো তিনি প্রভুপাদ ইস্রায়েলকে আগেই জানিয়ে দিয়ে আকাশ সীমায় অবরোধ আরোপ করে সুখনিদ্রা যাপন করেন।
মিসরি জেনরেল আবার ইখওয়ানের লৌহ চঞ্চু নিয়ে বিষাদ বিরহে ভুগছেন। টালমাটাল গদি সামলাতে আর সিনাই উপদ্বীপের দখল রাখতে সকাল বিকাল ভিডু কলে নেতানিয়াহুর পদতলে উপুড় হয়ে পড়া ছাড়া গতান্তর তো নেই। সে আর কি’বা করতে পারে বলুন। হামাসের তো উচিত জেনরেল কে বরং ইখওয়ান তাড়িয়ে সহায়তা করা। আহা জেনরেল।
আমিরে আরব আমিরাতের আবার চক্ষুলজ্জা নেই। তৈল সলমন লম্বা জোব্বার আড়ালে তৈল ঢাকলেও, তার ভিনদেশী দস্তরখানে যুক্ত হয়েছে আরএসএস তোহফা। নেতানিয়াহুর সাথে গলায় গলায় প্রীত অপূর্ব মেলবন্ধনের লহমায় হিন্দুস্থানি ঝংকার তুলে নেচে যায়।
কাতার আছে বড্ড দোটানায় শাম রাখি না কূল রাখি। দরবার শরীফের আশীর্বাদ যদি সরে যায় কি হবে ভোগবিলাসের! মরুক স্বজাতি তাতে আমার কি? ওরা তো অস্ত্রের গিনিপিগ বৈ তো নয়।
সত্যি ই তো। তাই নয় কি। সমরাস্ত্রের আর মসনদের গিনিপিগ বৈ ওদের আর কোনো মূল্য তো নেই। ওটা পৃথিবীর বাইরে, যেখানে চলে না সভ্যতার কোনো আইন। গন*হত্যা ই সেখানে নিয়তি ও পরিণতি!
*/ ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে আরোহনের পূর্বে এ লেখাটি লিখেছিলাম, যখন চলছিলো যুদ্ধবিরতির আলোচনা, তবুও বরাবরের মতো শত লাশ পড়ছিলো শুধুমাত্র সংখ্যা হয়ে। /*
|| ৭ ই মার্চ ১৯৭১ সরি ২০২৪ ||