আলোচনার এক পর্যায়ে বলি—যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপর পক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, “ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স।তোমার বয়সের থেকে বেশি।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন আহ্বায়ক
হাসনাত আব্দুল্লাহর সেদিনের পোস্টে এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সারজিস আলম ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বললেও, টোন বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করলেও, এই কথা সারজিস আলম নিজেও অস্বীকার করতে পারেননি।
তার মানে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া লোকটা সেদিন এই কথা বলেছিলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ পোস্ট দেওয়ার পর এসব বিষয়ের সত্যতা নিয়ে অনেক সন্দেহ উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আজকে নেত্র নিউজের প্রতিবেদন আর টোন বিশেষজ্ঞ হতে চাওয়া সারজিস আলমের পোস্টের পর এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে জাতিসংঘের চাপে নিজের গদি বাঁচাতে আত্মীয়ের সর্বনাশ করা ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া ব্যক্তি আবার সক্রিয় হয়েছেন আত্মীয়ের প্রতি করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে।
এটা খুবই সুস্পষ্ট যে ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া ব্যক্তির এই কথার পর তার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন চলতে পারে না।
উল্টো এখন সেই ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া ব্যক্তির জাতির সামনে সুস্পষ্ট করা উচিত যে কেন তিনি এরকম হঠকারী কথার বিষয়ে নিজের অভিমত (সারজিস আলমের মতে)/চাপ (হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে) ব্যক্ত করছেন। তার মনে এসব অভিমত উদয় হওয়ার কারণটাই বা কী? এসব বিষয়ে বিস্তারিত জাতির অবশ্যই জানা প্রয়োজন।
আর একের পর এক ঘটনা ঘটছে, আর বিএনপি সকল বিষয়ে চরমভাবে নিজেকে অকার্যকর দল হিসেবে অবনমিত করছে। দেশের বিভিন্ন অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের হাইকমান্ডের নানারকম অবিবেচক ও বালখিল্যসুলভ বক্তব্য এটা প্রমাণ করে যে বিএনপি চরম পর্যায়ের অগোছালো একটি দলে পরিণত হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের রাশ টেনে যেভাবে দেশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা ছিল, তার কিয়দংশও করতে সক্ষম হয়নি বিএনপির হাইকমান্ড। এভাবে চলতে থাকলে সেই ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া ব্যক্তির খায়েশ পূরণ হতে বেশি সময় লাগবে না।
জিয়াউর রহমান লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন নিজের জীবন দিয়ে। লীগ নির্মমভাবে খুন করে তাকে। আর এবার বিএনপির ব্যর্থ ও অযোগ্য হাইকমান্ড আবার সেই ক্ষেত্র তৈরি করছে। এটার প্রায়শ্চিত্ত কীভাবে করবে বিএনপি, সেটা কি ভেবে দেখেছে কখনো?
“বড় দল হিসেবে দাবি করা” বিএনপি শুধুমাত্র একটি উদাহরণ। বাকি দলগুলোও একই পথের পথিক। প্রতিটি দলের হাইকমান্ড অযোগ্য লোক দিয়ে পূর্ণ। ফ্যাসিবাদের পূর্ণ সময়ে ‘র’ যে কঠিন জাল বিস্তার করেছিল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অন্দরে, তা থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। যার ফলে তারা বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বিপ্লবের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর চুপচাপ থাকা, ওয়াকারকে অপসারণে বাধা। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অযোগ্যতার মুখোশ উন্মোচন করেছিল। আর সেই কারণেই আজকে ৪০ বছর সার্ভিস দেওয়া ব্যক্তি এসব কথা বলতে সাহস পায়।
এভাবে ভুল পথে চলতে থাকলে বাংলাদেশ আবারও নিপতিত হবে ভুল পথে। এটা ধ্রুব সত্য যে লীগ কোনোভাবেই বাংলাদেশে আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু লীগকে সুযোগ করে দেওয়া হবে, যেমন এখন দেওয়া হচ্ছে। আর এই সুযোগগুলো তৈরি করে দেবে বাংলাদেশের অযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলো। যারা পূর্ণাঙ্গ রূপে নীতি-আদর্শ বিচ্যুত হওয়ার পথে।
এসব শ্বাপদের হাত থেকে বাংলাদেশের খুব সহজে নিস্তার নেই। এরা আবারও খুবলে খাওয়ার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। আর নিস্তার কীভাবে পাব? এসব শ্বাপদ তো আমরাই, এরা তো আমাদের সমাজেরই অংশ।
একমাত্র সমাধান—বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল পরিপূর্ণভাবে সংস্কার করা এবং মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থা ও অবিচল বিশ্বাসকে আবার ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সংবিধান পুনর্লিখন করা। তবেই যদি সম্ভবপর হয় জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতি।