এ লড়াই শুধু একটি ভূখণ্ডের নয়, এ লড়াই প্রজন্মান্তরের এক আপন করে নেয়ার লড়াই। যুগে যুগে দখল হয়েছে বারবার আবার জাররাহ রা., সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. দের হাতে সগর্বে ফিরে এসেছে, উড্ডীন হয়েছে কালেমার পতাকা।
আজও লড়াই চলছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মাতরে বয়ে চলছে লড়াইয়ের রেশ। তবু এ থামবার নয়। কারণ এটি একটা আদর্শিক লড়াই, নিজের আত্মপরিচয় বাঁচানোর লড়াই, আল আকসা, মাতৃভূমি ফিলিস্তিনের সম্ভ্রম রক্ষার লড়াই।
বিশ্বের মানবতাবাদী বলে পরিচিতদের নিকট হয়তো এ শহীদি মৃত্যু একটি সংখ্যা মাত্র। সেখানে গুটিকয়েক বন্দি তারা ফলাও করে প্রচার করে কিন্তু অজস্র শহীদের হিসাব তাদের কাছে একটি সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়!
মুসলিম বিশ্ব আজ ঘুমন্ত! তারা জেগেছিল সেই সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর তলোয়ারের ঝলকানিতে। কিন্তু আজ আর জাগিয়ে তোলার কেউ নেই, সবাই আজ ব্যস্ত রাজপরিবারের প্রভূত্ব টিকিয়ে রাখতে। মুসলিমরাই আজ সবচেয়ে বড় শত্রু ফিলিস্তিনের।
ইরানের মিসাইলের খবর জর্ডান, সৌদি নিজ দায়িত্বে দখলদারদের কাছে পৌঁছে দেয়। তুরস্ক সকালে তেল আর লৌহইস্পাত পাঠিয়ে বিকেলে গাজায় ত্রাণ পাঠিয়ে নাটক করে। মিসর তো নানা সময় নানা রূপ ধারন করে। আরব আমিরাত তো কাছা খুলে দখলদারদের পদলেহনে ব্যস্ত। বাকিদের অবস্থা ও প্রায় একই রকম। মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান নিজস্ব সমস্যা নিয়ে জর্জরিত অথচ পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার বদৌলতে ভালো কিছু করার সক্ষমতা ছিলো পাকিস্তানের। এই আরকি। ফিলিস্তিনের পাশে আজ কেউ নেই বলতে গেলে।
তবুও কি মুক্তি সংগ্রাম থেমে গিয়েছে? নাহ থামে নি, এ লড়াই নিজ প্রজন্মের লড়াই না, বর্তমান প্রজন্মের রক্ত ঢেলে আগামীর প্রজন্মের সুন্দর দিনলিপি লেখার লড়াই। তাইতো অজস্র শহীদের রক্তের মাঝে কাটছে দখলমুক্তের সংগ্রাম। আল আকসার মিনারে মুক্ত আজান শোনার আজন্মের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পার হচ্ছে প্রজন্মান্তর, তবু তারা অবিচল, এক আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থা আর বিশ্বাস নিয়ে চলছে মুক্তির কাফেলা। শহীদের লাল রক্তে সিক্ত মাটি আর দৃঢ়তায় ভরপুর ঈমানী জজবা নিয়ে অপেক্ষা শুধু আল আকসার মিনারে তাওহীদের রোশনাই দেখার।
জাতির আজ প্রয়োজন একজন সালহুদ্দিন আইয়ুবি যিনি আবার জাগিয়ে তুলবেন ঘুমন্ত মুসলিম জাতির আত্মাভিমান কে।
|| ৩ জানুয়ারি দুই হাজার ২৪ ||